মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

গণশুনানি

প্রতি বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, কুড়িগ্রামে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বাস্তুহারা, প্রশিক্ষিত বেকার যুবক, প্রতিবন্ধী, সরকারি দপ্তরে ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত-হতাশ অতি সাধারণ কৃষক—সবার অপেক্ষা বিশেষ এ দিনটিকে ঘিরে। সমাজে নানা ক্ষেত্রে নানাভাবে ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা দিনটির জন্য অপেক্ষায় থাকে। সরকারি প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব ঘোচাতে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চালু হওয়া গণশুনানি স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতি বুধবার দুস্থ অসহায় মানুষ সরাসরি জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ ও সমস্যার কথা বলে তাত্ক্ষণিক সমাধান পাচ্ছে। তাই দিনে দিনে গণশুনানিতে ভুক্তভোগী মানুষের ভিড় বাড়ছে।

গতকাল বুধবার সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের নিচতলায় চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসে আছেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান। সামনে বসে আছে অর্ধশতাধিক বিভিন্ন বয়সী মানুষ। তারা এসেছে তাদের সমস্যার কথা জানাতে। জেলা প্রশাসক তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলছেন। আবেদন গ্রহণ করছেন। এভাবে সমাধান পেয়ে সন্তুষ্টচিত্তে ফিরে যাচ্ছেন অনেকেই।

সদর উপজেলার ঘোগাদহ থেকে আসা আফসার আলী গণশুনানিতে সেটলমেন্ট অফিসে পরচা নিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেন। জেলা প্রশাসক তাত্ক্ষণিকভাবে রংপুর জোনাল সেটলমেন্ট অফিসারকে বিষয়টি জানিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেন। উলিপুর উপজেলার দড়ি কিশোরপুর গ্রামের নুর আলম অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে বিবাদের জেরে তাঁর বাড়ি ভেঙে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক তাঁর অভিযোগপত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এভাবে শত শত মানুষ নানা আবদার আর অভিযোগ নিয়ে হাজির হন প্রতি বুধবার। অনেকেই ঘর-বাড়ি মেরামতের জন্য টিন ও অর্থ পেয়েছেন। কেউবা হয়রানি থেকে রেহাই পেয়েছেন। সদর উপজেলার চেরেঙ্গা গ্রামের জন্মান্ধ ভিক্ষুক খোকা মিয়া। তাঁর বয়স প্রায় ৭০। সংসারে ছেলে নেই। দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। স্ত্রীকে নিয়ে ভিক্ষার আয়ে সংসার চলত। গণশুনানিতে অংশ নিয়ে ছয় হাজার টাকা ও দুই বান্ডিল টিন পেয়ে ঘরবাড়ি মেরামত করেছেন। ১৯ শতক জমি বন্ধক নিয়ে চাষবাসও করছেন।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান বলেন, ‘মানুষের ব্যাপক সাড়া পেয়ে আমি এখন অফিস ছেড়ে নিচে বসি। যাতে প্রতিবন্ধীসহ অচল মানুষেরা সহজেই তাদের কথা বলতে পারেন। এভাবে গণবান্ধব প্রশাসন চালু করে সব বিষয়ে সাধারণের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হয়েছে। আমরা শাসক নয়, সেবক হিসেবে কাজ করছি।’

জেলা প্রশাসক আরো জানান, একসময় সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ বা কথা বলা বেশ দুরূহ ছিল। সেই সুযোগে দালাল আর সুযোগসন্ধানীদের খপ্পরে পড়ে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রশাসনও বদলে গেছে। জনগণের প্রভু নয়, প্রশাসন সেবক হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। গণশুনানির মাধ্যমে জনগণের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। সরকারি সেবা পেতে নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে এ সৃজনশীল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সূত্রঃ কালের কন্ঠ, ২৫ অক্টোবর, ২০১৭

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)